Loading...
You are here:  Home  >  কলাম  >  Current Article

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের লাপাত্তা হওয়ার রহস্য কী

234809ymzzqbrz

গাজীউল হাসান খান : গত ২০ এপ্রিল রাতে রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদের ওপর দিয়ে কোনো কাকপক্ষীও উড়ে যেতে সাহস পায়নি। পরবর্তী শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রাসাদকে কেন্দ্র করে চলছিল তুমুল গোলাগুলি। সে গুলি বিনিময় দুই পক্ষের মধ্যেও সংঘটিত হতে পারে। গোলাগুলির তীব্রতায় মাঝেমধ্যে রাতের আকাশও আলোতে ঝলসে উঠছিল। তাহলে সেটা কি ছিল কোনো বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপের অভ্যুত্থান কিংবা যুবরাজকে হত্যা করার প্রচেষ্টা? পরদিন রাশিয়া, ইরানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল সে ঘটনার খবর। বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমেও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছিল বিষয়টি। ইউটিউবে বিভিন্ন সচিত্র প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে গোলাগুলি বিনিময়ের। তাতে কেউ কেউ দাবি করেছে যে যুবরাজ সালমান পশ্চিমাজগতে যিনি ‘এমবিএস’ নামে খ্যাত, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে প্রাসাদ রক্ষীরা প্রথমে পার্শ্ববর্তী সামরিক বাংকারে ও পরে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছে, সৌদি ক্ষমতাধর যুবরাজ সালমান আর বেঁচে নেই। আবার কেউ কেউ ব্যাখ্যা দিয়েছে, রাতের অন্ধকার আকাশে একটি খেলনাজাতীয় ড্রোন প্রাসাদ সীমানায় ভুলে ঢুকে পড়ায় গুলি করে তাঁকে নামানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর জন্য একটানা এত গোলাগুলি? পরদিন অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ছেয়ে গেছে বিভিন্ন গুজবে। বিগত এক মাসে সে গুজব এখন মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য মহাদেশের সর্বত্র। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক মহল একেবারে চুপচাপ, সম্পূর্ণ ওষ্ঠবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গণমাধ্যমে এত তোলপাড়ের পরও সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কিছুই বলছে না এবং কোনো ব্যাখ্যাও দিচ্ছে না। অথচ এর মধ্যে এক মাস সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। তা ছাড়া ড্রোনের কথা বলা হলেও সেটি তেমন বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। কারণ আকাশ থেকে একটি খেলনা ড্রোন নামাতে এত ভারী অস্ত্র কিংবা সামনাসামনি গোলাবর্ষণ করতে হবে কেন? এরই মধ্যে যুবরাজ সালমানের স্ত্রী নাকি বলেছেন যে গত প্রায় এক মাস ধরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ নেই। এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার, যা সবাইকেই হতবাক করছে। এরই মধ্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট ও গালফের আরো দুই তরুণ নেতার সঙ্গে যুবরাজ সালমানের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যার সত্যতা নাকি অত্যন্ত বিতর্কসাপেক্ষ।

ক্ষমতায় নির্ধারিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের (বাদশাহ সালমানের ভ্রাতুষ্পুত্র) পরিবর্তে পরবর্তী অবস্থানে থাকা যুবরাজ সালমানের (বাদশাহ সালমানের পুত্র) উত্থান যথেষ্ট বিস্ময় সৃষ্টি করলেও অতি অল্প সময়ে শত্রু সৃষ্টি করেছে অনেক বেশি। ৩৩ বছর বয়স্ক আইনজ্ঞ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একে একে অনেক ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন। একাধারে তিনি সৌদি আরবের পরবর্তী শাসক হিসেবে ঘোষিত যুবরাজ, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রথম সহকারী প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থনীতি ও উন্নয়নবিষয়ক কাউন্সিলের সভাপতি এবং আরো অনেক কিছু। বর্তমান অশীতিপর বৃদ্ধ বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ পরলোকগত বাদশাহ আবদুল্লাহর কনিষ্ঠ ভ্রাতা। সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থায় অর্থাৎ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাদশাহ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। রাজপরিবারের বিশেষ সুবিধাভোগী সদস্যদের কর্মকাণ্ড, প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি এবং সবশেষে মুসলিম বিশ্বে জঙ্গিবাদের উত্থান সৌদি রাজতন্ত্রকে একদিকে যেমন বিভিন্ন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তেমনি ইসলামিক বিশ্বের (সুন্নি মতাবলম্বী) নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবেও বিভিন্ন সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে। রাশিয়া ও ইরানের কর্তৃত্বে চলে যাওয়া সিরিয়া কিংবা নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইয়েমেনে হুতি গেরিলাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা অবস্থান সৌদি আরবকে অত্যন্ত বিচলিত করে তুলেছে। তদুপরি অভ্যন্তরীণভাবে যুবগোষ্ঠী ও বিশেষ করে নারীসমাজসহ বিভিন্ন মানুষের আর্থ-সামাজিক চাহিদা মেটানোই একটি সময়োপযোগী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন জরুরি সংস্কারের। সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, রদবদল ও সংস্কার সাধনের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন দুঃসাহসী তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সালমানকে ‘ক্রাউন প্রিন্স’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৭ সালের ২১ জুন। গত প্রায় এক বছরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের বেশ কিছু দুঃসাহসী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। তিনি জাতীয় তেল কম্পানি আরামকোর শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে জাতীয় উন্নয়নের জন্য একটি বিশাল অর্থনৈতিক তহবিল গঠন করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ঘোষণা করেন তাঁর ভিশন ২০-৩০। এ সময়ের মধ্যে তিনি জ্বালানি তেলবহির্ভূত জাতীয় আয় ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার পাশাপাশি জাতীয় ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে কাতার ও ইয়েমেনে হুতি গেরিলাদের সাহায্য-সমর্থন দেওয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে রীতিমতো এক অঘোষিত লড়াই শুরু করেন। এ সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইয়েমেনে জঙ্গিবিমান থেকে হামলা চালিয়ে প্রায় ১২ হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মানবাধিকারকর্মীদের বন্দি করা কিংবা তাদের পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য করে তোলেন এমবিএস। এতে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ ওঠে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে তরুণ যুবরাজ সৌদি রাজপরিবারের অনেক প্রভাবশালী সদস্য, মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের রিয়াদের অভিজাত রিজ কার্লটন হোটেলে আটক করেন। লোহিত সাগরের তীরে NEOM নগরী নামে এক বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন সালমান। সে পরিকল্পনায় মিসর ও জর্দানকেও সম্পৃক্ত করা হয়। সে জন্য যুবরাজ সালমান বিত্তশালী ও দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহে মাঠে নামেন। এবং তাতে বিশ্বব্যাপী এক চাঞ্চল্যকর নাটকের উপস্থাপনা করেন। পাশাপাশি ঘরে-বাইরে সৃষ্টি করেন তাঁর জন্য অগণিত শত্রুর এক শক্তিশালী বাহিনী। তা ছাড়া মক্কা ও মদিনার মতো দুই মহাগুরুত্বপূর্ণ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরব মহিলাদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মহিলাদের সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা কিংবা মাঠে গিয়ে ফুটবল দেখার ব্যবস্থা ঘোষণা করে দেশ-বিদেশে ধর্মপ্রাণ বহু মানুষের বিরাগভাজন হয়েছেন। ইসলামিক বিশ্ব বাদ দিলেও সৌদি আরবের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা তা মেনে নিতে পারেননি। অন্যদিকে জেরুজালেমকে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা জেরেড কুশনারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সালমান শুধু ফিলিস্তিন নয়, সারা মুসলিম বিশ্বকেই খেপিয়ে তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সৌদি আরবে অস্ত্রের কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং তাদের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তে মুসলিম বিশ্ব উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। সে অস্ত্র ইরান, ইয়েমেন ও সর্বোপরি সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশেষ করে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল তার ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ব্যয়বহুল পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে প্রকৃত অর্থে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয়ে দেশটি শেষ পর্যন্ত দেউলিয়ায় পরিণত হবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল আশঙ্কা করছে। ধর্মীয় দিক থেকে কট্টরপন্থী ওয়াহাবিবাদ থেকে বেরিয়ে এসে সৌদি আরবের রাতারাতি এক উদারনৈতিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলো নিজেরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দেশ কী শেষ পর্যন্ত মার্কিন মুলুকের লাসভেগাসে পরিণত হবে নাকি? নারীদের উন্মুক্ত বিচরণ, দ্রুতগতিসম্পন্ন চাকচিক্যপূর্ণ গাড়ি চালনা, ক্যাসিনো, ক্লাব, খেলাধুলা ও লোহিত সাগরে প্রমোদ-বিনোদনমূলক নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনায় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ বেশ বিচলিত হয়ে উঠেছে। আর তাতে হাওয়া দিচ্ছে আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর সমর্থকরা। তাতে সৌদি আরবের ঘরে-বাইরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শত্রু তৈরি হচ্ছে অতিদ্রুত। অনেকে মনে করে এমবিএসের হাতে ইসলাম বিপর্যস্ত হবে। সুতরাং তাঁর জীবনের ওপর তো হামলা হতেই পারে। এতে অবিশ্বাসের কিছুই নেই।

জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বসবাসকারী জনৈক রাজপরিবারের সদস্য খালেদ বিন ফারহান বর্তমানে সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে সাবেক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের (বর্তমান বাদশাহর ভ্রাতুষ্পুত্র) যথেষ্ট গুণগ্রাহী রয়েছেন। তাঁরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে নায়েফের যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন। তাঁদের অনেকেই বলে থাকেন, সৌদি জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ বিন নায়েফ সালমানের তুলনায় যথেষ্ট প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও চিন্তাশীল। তা ছাড়া ভবিষ্যৎ ক্ষমতার প্রশ্নে সৌদি রাজপরিবারে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ মনে করেন, বয়সে তরুণ হলেও তাঁর পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান যথেষ্ট যোগ্য, সাহসী ও সময়োচিত সংস্কার ও পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে ভয়ভীতিহীন। এককথায় সৌদি আরবের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থায় শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন ও সময়োচিতভাবে আর্থ-সামাজিক সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এমবিএস আপসহীন, ভাবাবেগমুক্ত ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ শাসক হিসেবে ইউরোপ ও আমেরিকায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য এমবিএস বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেছেন, যা এভাবে করা উচিত ছিল না। যুবরাজ সালমানের সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর যথেষ্ট ফলপ্রসূ হলেও সালমান নিজেই আবার ভারসাম্যহীন কার্যকলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব করেছেন। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সালমান যথেষ্ট উদারনৈতিক হোন, সেটা পশ্চিমাজগতে অনেকেই চান। তাই বলে বিশ্বের দেড় বিলিয়ন মুসলমানের নির্ভেজাল ধর্মীয় আস্থার স্থান সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা নগরীসহ সেই পুণ্যভূমিকে কোনোমতেই কলুষিত করা যাবে না। সৌদি আরবকে বিশ্ব মুসলিমরা তুরস্ক কিংবা ইরানের মতো সামরিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায় না। তারা কেউ চায় না সৌদি আরব দুবাই কিংবা অন্যান্য প্রমোদ নগরীর মতো হোক। সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইহুদিবাদী মিত্র ইসরায়েলের খপ্পরে পড়ে এমবিএস তাঁর এ সামগ্রিক প্রেক্ষাপট কিংবা প্রেক্ষিতটিই ভুলতে বসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুবা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্রশস্ত্র লাভের প্রত্যাশায় একজন আরব মুসলিম শাসক কী করে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের মুক্তির ইস্যুটি বিভ্রান্তিকর অতলে নিক্ষেপ করতে পারেন? সালমান বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় তাঁর রক্ষাকবচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পেতে চান। যুবরাজ সালমান মনে-প্রাণে চাচ্ছেন তারা ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাঁর প্রতিরক্ষা বিধান করুক। সে কারণে সালমান তাঁর NEOM মেগাসিটি প্রকল্পে ইসরায়েলকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, যা ইসরায়েল সুন্নি মতাবলম্বী মুসলিম বিশ্বের নেতা সৌদি আরবের কাছ থেকে কখনো আশা করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে বহু দিক দিয়ে সৌদি আরবের গুরুত্ব অতুলনীয় ও সীমাহীন। এখনো সৌদি অর্থ ও সম্পদের ওপর বেশ কিছুটা নির্ভর করে আছে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে যুবরাজ সালমানের আচরণ অত্যন্ত চিন্তিত করে চীন ও রাশিয়াকেও। কিন্তু মূল বিষয়টি হচ্ছে, নয়া সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না, যতটুকু চীন ও রাশিয়ার ওপর রাখা যায়। এটি বোধ হয় ইতিহাসের একটি নির্ভরযোগ্য শিক্ষা।

সৌদি আরবের ভাবী তরুণ শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বব্যাপী তাই অনেকেই শঙ্কিত। গত প্রায় এক মাস অর্থাৎ রিয়াদে তাঁর প্রাসাদে ঘটে যাওয়া গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে এই দুঃসাহসী তরুণ যুবরাজের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। সৌদি রাজপ্রাসাদ থেকেও কোনো কিছুই নিশ্চিত করা হচ্ছিল না। সবখানেই যেন একটা সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। সংবাদ ও সামাজিক গণমাধ্যমের কোনো কিছুই কি তাঁদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি। অনেকে মনে করেছিল, যুবরাজ সালমানের মাথায় ও বুকে গুলি লেগেছে। সে ঘটনার পরপরই তাঁকে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিংবা উচ্চতর চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী ইসরায়েলেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। ওপরে বর্ণিত সবই হচ্ছে সম্ভাবনার কথা। এ অবস্থায় সৌদি রাজপরিবার থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সব গুজবের অবসান ঘটাতে পারত। কিন্তু তা করা হচ্ছিল না কেন? তারপর আল-আরাবিয়া টিভি চ্যানেলে হঠাৎ করে শোনা গেল সালমানের জেদ্দায় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা। কিন্তু কোনো ছবি দেখানো হয়নি। তাহলে এত দিন তিনি কোথায় ছিলেন? কেন এ নীরবতা?

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
gaziulhkhan@gmail.com

    Print       Email

You might also like...

Mofajjol-Karim

সামাজিক বৈষম্যের ঈদ আর কত দিন

Read More →