Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

হোয়াইট হাউস থেকে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা

Rumanaমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শপথ নেয়ার মাত্র আট দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ।  বৃহস্পতিবার দ্য আটলান্টিক পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক কলামে রুমানা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষিদ্ধকরণ’ ঘোষণার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ‘আমি হিজাব পরা একজন মুসলমান নারী। মার্কিন প্রশাসনের ওয়েস্ট উইংয়ে আমিই একমাত্র হিজাব পরা কর্মকর্তা ছিলাম। ওবামা প্রশাসন আমাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং সর্বদা কাজে উৎসাহ জুগিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও দেশের জন্য কাজ করতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (এনএসসি) থেকে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র ৮ দিন কাজ করতে পেরেছি।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য । তিনি ২০১১ সালে হোয়াইট হাউসে নিযুক্ত হয়েছিলেন।  তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। তাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোয়াইট হাউসে নিয়োগ দেয়া হয়।
মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে তিনি নিয়মিত হিজাব পরেন। ওবামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশের সেবায় ট্রাম্প প্রশাসনে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার। রুমানার আশা ছিল নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগিরা ইসলাম এবং আমেরিকার মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে খুব একটা পার্থক্য হয়ে দাঁড়াবেন না। কিন্তু তার সেই আশায় গুড়েবালি।
রুমানা আহমেদ তার কলামে লিখেছেন, `আমার বেশ কয়েকজন আমেরিকান মুসলিম সহকর্মীর মতো আমিও গত বছরের বেশিরভাগ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে আমাদের গোষ্ঠীর মানহানি করেছেন তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। এসব সত্ত্বেও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মী হিসেবে ট্রাম্পের প্রশাসনে থাকার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অস্থায়ীভাবে ও সিরীয় শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সই করার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে এই আদেশ সাময়িকভাবে থেমে যায়। কয়েকদিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে এই আদেশ পুনর্গঠন করা হবে বলে জানান রুমানা আহমেদ।
তিনি আরও লিখেছেন, যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো মানুষকে নিজেদের নাগরিক মনে না করে উল্টো হুমকি হিসেবে দেখে, তাদের হয়ে কাজ করতে গিয়ে বেশি দিন টিকতে পারবো না জানতাম। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন আইএস জুজুকে তুরুপের তাস হিসেবে নিয়ে মুসলিমদের ইরাক ও সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমর্থক দাবি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কলামে রুমানা আহমেদ জানিয়েছেন, মূলত মুসলিমদের লক্ষ্য রেখে মৌলবাদী সন্ত্রাস পরিভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে আইএসকে সামনে  এনে চরমপন্থীদের সহিংসতা প্রতিরোধের কর্মসূচি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য বেড়ে যাবে আশঙ্কাজনক হারে। তাই নতুন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নড়েচড়ে বসার পরামর্শ দেন তিনি।
তার মতে, হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নির্দলীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনি বিশেষজ্ঞদের খাটো করেছে প্রেসিডেন্ট সমর্থিত পুরো কাঠামো। তিনি মনে করেন, আমেরিকায় এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, রুমানা আহমেদের বাবা-মা ছিলেন বাংলাদেশি। ১৯৭৮ সালে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে বাবা কর্মরত ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকায়। ব্যাংকটির সদর দফতরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। তার মা কাজ করতেন ক্যাশিয়ার হিসেবে। পরে ডে-কেয়ার ব্যবসা শুরু করেন।

    Print       Email

You might also like...

_97945049_gettyimages-509148854

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান

Read More →