Loading...
You are here:  Home  >  অর্থ ও বাণিজ্য  >  Current Article

৬ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করার প্রত্যয় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের

এনএসডিসি 1

সাঈদ চৌধুরী: এনএসডিসি সচিবালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) এবিএম খোরশেদ আলম বলেছেন, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ৬ কোটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনসম্পদে পরিণত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণ এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে নতুন ভাবে তুলে ধরা সম্ভব। আর সেই প্রত্যয় ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ।

এনএসডিসি 2

গত রবিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “ জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতা আয়োজন” বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মৃনাল কান্তি দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো: আজম খান। কর্মশালায় জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতা আয়োজন বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এনএসডিসি সচিবালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো: শাহ আলম। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

এনএসডিসি সচিবালয়ের প্রধান নির্বাহী এবিএম খোরশেদ আলম দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনসম্পদ তৈরীর পরীকল্পনা তুলে ধরে বলেন, শিঘ্রই বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেবে ওয়ার্ল্ড স্কিল ইন্টারন্যাশনাল। আর এই সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশও খুব শিঘ্রই আনুষ্ঠানিক আবেদন করবে। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড স্কিল ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট সাইমন বার্টলি জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ হবে সংস্থার ৭৮তম সদস্য।’ আগামী অক্টোবরে সংযুক্ত আবর আমিরাতের আবুধাবিতে সংস্থার ৪৪তম প্রতিযোগিতার আগেই বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ওয়ার্ল্ড স্কিল ইন্টারন্যাশনাল দুই বছর পর পর সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। রাশিয়ার কাজানে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য ৪৫তম বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান এবিএম খোরশেদ আলম। তিনি মানব সম্পদ উন্নয়নে সরকারের বহুমুখি কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, দক্ষতার বিষয়টি সরকার আলাদাভাবে বিবেচনা করছে। শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতার গুরুত্ব দেয়া হবে। চাকরি হোক বা সেলফ এমপ্লয়মেন্ট হোক, কাজের উপযোগী হওয়ার জন্য বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ চলছে। সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ১১টি শিল্পখাত ভিত্তিক কাউন্সিল হয়েছে। আরো তিনটি এবছর গঠন করা হবে। দুই বছরের মধ্যে দেশে ২০টি শিল্প খাত ভিত্তিক দক্ষতা কাউন্সিল গঠন হবে।

বেসরকারি খাতে কোন ধরনের শিল্পে কী ধরনের দক্ষতা দরকার হবে, সরকারের সহযোগী হিসেবে কাউন্সিলগুলো তা নির্ধারণ করবে বলে জানান খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে যুক্ত আমাদের যে কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর বাইরেও সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এনএসডিসি সচিবালয়ের প্রধান নির্বাহী এবিএম খোরশেদ আলম জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের ভিশন ও মিশন সম্পর্কে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১ এর উদ্দেশ্যাবলী বাস্তবায়ন, দক্ষতা উন্নয়নের মান ও প্রাসঙ্গিকতার উন্নয়ন সাধন, সহজবোধ্য সিটিজেন চার্টার প্রতিষ্ঠা, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদির সমন্বয় ও তদারকি করা। একটি সংবেদনশীল দক্ষতা উন্নয়ন খাত প্রতিষ্ঠা ও এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে একটি কর্মসূচি ভিত্তিক কার্যক্রম, গবেষণা, পরিকল্পনা, মূল্যায়ন, এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ (এনএসডিসি) ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের কার্যকরী কমিটি (ইসিএনএসডিসি) কে দক্ষতা উন্নয়নের নিমিত্ত সেবা প্রদান করা।

প্রধান নির্বাহী এবিএম খোরশেদ আলম এ সংস্থার কার্যাবলী তুলে ধরে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ (National Skills Development Council – NSDC) সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ এ্যাপেক্স বডি হিসেবে বিভিন্ন কার্যাদি সম্পাদন করবে। এর মধ্যে রয়েছে, দেশে মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের নির্দেশনা প্রদান, অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন তদারকি; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহের কোর্স-নকসা ও কারিক্যুলা যুগোপযোগীকরণ, সমন্বয় সাধন এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের ধারণ ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান, বাস্তবায়ন তদারকি ও পরিবীক্ষণ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউএনডিপি’র এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়নের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ। এ দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ; যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। জনসংখ্যা তাত্ত্বিক এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনেক বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। ১৫-৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হাতে কাজ থাকলে মোট দেশজ উত্পাদন বাড়ে। ফলে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি দেশ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যেতে পারে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা রেমিট্যান্স আহরণের অন্যতম প্রধান শক্তি। রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হয় আমাদের অর্থনীতি। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরী করতে পারলে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির স্কেল ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হবে।

    Print       Email

You might also like...

122647_b7

সিলেটে পুলিশ ছাত্রদল সংঘর্ষ, গুলি, আহত ১৫, আটক ২০

Read More →